রাতের পরী

রাতের পরীদের কেউ চিনেন? ওরা ভারদেহী, ঝলমলে পোষাক পরিহিতা, ওরা নানান রঙ্গে মন মাতানো ঢংগে রাতের আকাশে উড়ে। ওরা ছন্দে ছন্দে আমাদের অনেকের মনেই দোলা দিয়ে যায়। ওদের কাছে কত বীর যে নিশীথে জাত কূল হাড়িয়েছে, এখনো হাড়াচ্ছে!
সেই রাতের পরীদের কথাই বলছি। রাতের পরীরা কিভাবে উড়লো, কিভাবে নিষিদ্ধ গলিতে এলো, কেও ভাবেনা। ওরা ক্ষুদার্ত। জৈবিক চাহিদা, নিষ্ঠুর বাস্তবতা কিংবা হায়ানাদের ধারালো দাবানলে ওরা ক্ষত বিক্ষত। ওদের অসহায়ত্ব কেউ দেখেনা। বন্দী পাখীর মত ওরা ছটফট করে মরে। আমরা ওদের ডানা ভেঙে, খাঁচায় আঁটকে রাখি।
শুকুনীর দল মাতে উল্লাসে। ওরা পিপাসা মিটাতে ব্যাস্ত। ওরা রাতের পরীদের কোলে ভবিতব্য বীজ বপন করে জুটা আবর্জনা ডালে, আবার ওরাই ওদের “নষ্টা খ্যতাব দেয়।
চারিদিকে ধর্মের বাতাস। চারিদিকে মানবতার হুংকার। মহান ব্যক্তিদের বিশাল বিশাল বানী। ওদের বল… নেবে কি কোন রাতের পরীকে তোমার ভালবাসার আঙিনায়? ওরা মুখ ফিরিয়ে নেবে। আহ! মানব স্বত্বা! আমি লজ্জিত এমন একটি সমাজের বাসিন্দা আমি যেখানে রাতের আঁধারে নষ্ট পল্লীতে যাতায়াত বৈধ, নষ্ট নারীপ কষ্টগুলোকে হাত দিয়ে ছুঁয়ে যাওয়া অবৈধ!
আমি তাদের কথা বলছিনা, যারা শখের বশে রাতের পরী সাজে। আমি তাদের কথা বলছি,যারা বাস্তবতার কঠিন উত্তাপের শিকার, যারা অনাহাড়ে প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠে, যাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে, সুশীল সমাজের ভদ্র বেশী শকুনগুলো তাদের কে খুঁবলে খায়, তাদের কে রক্তাক্ত করে নষ্ট পল্লীতে মোহর মেরে, ছুঁড়ে ফেলে আসে।
রাতের আঁধারে নষ্ট পল্লীর কষ্টগুলো নিয়ে আমরা খেলা করি। দিনের আলোতে তাদের ভালবেসে সমাজের একটা কলংকময় অধ্যায় এর অবসান ঘটাতে আমাদের জাত যায়, আমাদের ধর্ম যায়! ওদের নষ্ট দেহের ভাঁজে ভাঁজে লাভার উৎপাত ঘটিয়ে প্রশান্তির হাসি ফুটে আমাদের মুখে। ওদের দেহে রচিত গদ্যের পাতায় পাতায় শুঁকিয়ে যাওয়া কষ্ট গুলো ছুঁতে ঘেন্না হয়! বাহ! চমৎকার! আমরা পারিও বটে!