প্রবাহমান জীবন ও কিছু কথা পর্ব ১!

প্রবাহমান জীবন ও কিছু কথা!
পর্ব -১
ডার্ক এভিল।

সময় প্রবাহমান। নিজের গতিতে চলতেই থাকে। মানুষ ও সেই সময়ের সাথে ভেশে যায় এক ঘাট থেকে অন্য ঘাটে। পিছনে ফেলে যায় কিছু সুখ, দুঃখতি বিজরিত মুহুর্ত। প্রতিদিন আমাদের এই বেচে থাকার লড়াই প্রকৃতির সাথে, সমাজের সাথে, পাওয়া না পাওয়া আর মিথ্যা ও সমঝোতার সাথে। যে মানুষ এই বহুরুপী লড়াই এর কাছে পরাজয় মেনে নেয়, সেই হেরে যায়! হেরে যায় জীবনের কাছে, হেরে যায় নিজের কাছে!
জিবনের বাস্তবতা বড় কঠিন। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী চলেনা। একেক সময়, একেক দিকে এঁকে বেঁকে চলে। নদীর স্রোত কে যেমন নিয়ন্ত্রন করা যায়না,প্রবাহমান জীবনের গতিকেও নিয়ন্ত্রন করা যায়না। নিজেকে সেই গতিতে মানিয়ে নেয়ার নামই বেঁচে থাকা। আমরা অনেক সময়, নিজের জন্যই কেবল বেঁচে থাকি। কিছুটা স্বার্থপর এর মত। আমি কি চেয়েছি , আমি কি পেয়েছি… সেটাই যেন মুখ্য বিষয়। ভাল চাকরি হয়নি, হতাশায় ডুবে গেলাম। ভালবাসায় সফলতা আসেনি, গাজা ,ইয়াবা খাওয়া শুরু করলাম। জীবনের গতির সাথে তাল মিলিয়ে সামনে এগুতে পারলাম না, আত্যহত্ত্যা করে ফেললাম । আমরা কি কখনো ভাবি, এই দেহ, এই সৌন্দর্য , এই জীবন কার দেওয়া ? যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তার প্রতি কতটা শুকরিয়া আদায় করেছি ? যারা আমাকে দুনিয়ার মুখ দেখালেন, সেই মা বাবার প্রতি কতটা দায়িত্ব পালন করা হয়েছে? এই জীবনটা তাদেরই দান !!! আমরা সবই বুঝি । তারপর ও , দুঃসময়ের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে হিমসিম খাই।

কখনো কখনো আমরা পৃথিবীর সমস্ত শক্তি দিয়েও মনের অবাধ বিচরণকে স্থির করতে পারিনা। অনেক অসম্ভব চলাচলকেও পৃথিবীর মানুষ স্থির করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু পারেনি কল্পনার সাগরে মানুষের মনের অবাধ বিচরণকে স্থির করতে।
মানুষের মনের তিনটি স্তর রয়েছে। আমি বলছিনা, সিগ্ম্যেন্ট ফ্রয়েড বলে গেছেন… ইদ, ইগো, সুপার ইগো। যে বেশী ইদ দ্বারা প্রভাবিত, সেই অমানুষ বনে যায়। একমাত্র মহা মানব দের মাঝেই সুপার ইগো লক্ষ্য করা যায়। ইগো না থাকলে, মানুষের মনের প্রতিনিয়ত গতিবিধি বা পরিবর্তন কে ব্যাল্যান্স করা অসম্ভব হত। হয় মানুষ অমানুষ হত, নয় মহা মানব। আর সেই ইগো টাই হচ্ছে আমাদের বিবেক। যার বিবেক নেই, সে আক্ষরিক
অর্থে পশু। মানব চরিত্রের দুটি অতিলৌকিক চরিত্র জীবন ও মৃত্যু। জীবন চায় বেঁচে থাকার
স্বাদ নিতে, মৃত্যু চায় জীবনের কে ছিনিয়ে নিতে ! এ লড়াই আমরন চলে। অনেকেই বলে, মানব দেহে শুধু মাত্র প্রান থাকলেই কি তাকে বেঁচে থাকা বলে? হয়তো বেঁচে থাকাটাই অনেক বড় কথা !
আমার মনে হয়, মানবিক বোধ,স্বনিরভরতা, আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকাটা কেই সত্যিকার বেঁচে থাকা বলে। অন্যের জন্য বেঁচে থাকাই সুন্দর । নয় কি ?
যার বেঁচে থাকায় শুধুই নিজের লাভসিদ্ধি, যার বেঁচে থাকায় অন্যের জন্য ভাল কিছু বয়ে আনেনা, সেই বেঁচে থাকাকে কি আসলেই বেঁচে থাকা বলে? হয়তো বা।
আমি বিষয়টা টা কে একটু ভিন্ন ভাবে দেখি। আমার দেখায় যুক্তিকতা নাও থাকতে পারে।
অস্বীকার করছিনা।