নীল

নীল অরণ্যে সোনালী রোদ্দুর, অবাক আপ্লুত আঁখি
মুহূর্তেই মেঘদূতের ডানায় দেখি নীল কষ্টের ছড়াছড়ি।
আঁধারে জ্বলজ্বলে তারার ঝিকিমিকি
উদ্ভ্রান্তের মত হাজারো তারা গুনি, এই বুঝি এলে।
হঠাৎ আমার বুকের নীল সাগরে খসে পড়ে একটি ধ্রুব তারা
সাদা মেঘের কোলাহল মিছিল, অনাগত উষার অর্নিল
উৎকন্ঠিত অনুভবে জড়তার রাশি
সচল ভ্রান্তি আমার অবিচল কচ্ছপের ন্যায় বাড়ে।
পথের খোঁজে পথে নেমে রাস্তাগুলো সব হারিয়ে যায়
ভুলে ভুলে মনের ঘরে ঝুপ করেই আঁধার ঘনায়।
এ কেমন ভ্রান্তি আমার,
চোখ বুজলেই তোমার দেখা পাই
হাত বাড়িয়ে ছুঁতে গেলেই
তোমার অস্পৃশ্য ছায়া অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে!
মেঘের মনের বিকিকিনি দিন দিন বাড়ে
নিশিথের নিদ্রা অভিমানে মন কাঁপে
এই তো এলে, পাশে বসলে
আর বসলেই কেন ঘুম আসেনা;
দূরে গেলে মন হাসে না।
নখের আঁচড়ে জমিন আঁকড়ে থাকি
আঙুলের ডগা হতে আকাশ ছুটে যায়
বহ্নিহীন তোমার অদৃশ্য স্পর্শে ভোর হয়ে যায়!
বিষণ্ন আকাশ সোনালী রোদ্দুরে ছেঁয়ে গেলে
সমুদ্র গর্জনে ভেসে আসে দুঃখ সুখের বীণা।
তুমি এলেই প্রকৃতি হেসে উঠে,
লজ্জাবতী লাজে রাঙে, মহীরুহ খেলা করে সবুজ ঘাসে
কাঠের পুরানো চেয়ার,ভাঙা কাপ,বইয়ের বিবর্ণ হয়ে যাওয়া পৃষ্টা
নেতিয়ে পড়া মাধবীলতা..
সব যেন জীবন্ত হয়ে উঠে!
বাতাসে পাতার মরমর শব্দে মনে হয় তুমি এলে!
কপাট খুলতেই ভীষণ শুন্যতায় চারিদিক ছেঁয়ে যায়।
এলে মনে হয় এখানেই তো ছিলে
চলে গেলে মনে হয় এইতো এসেছিল!
এই যে পায়ের ছাপ, চুলের ঘ্রাণ
চাদরে জড়ানো স্নেহের ছিঁটেফোঁটা
আড়ষ্ট চোখ প্রবল ঘুমে আচ্ছন্ন, এ কেমন ভ্রান্তি আমার,
চোখের পাতায় দেখি জেগে তুমি একাকী!
অভিমানী ফুল নিভৃতে ঝড়ে পড়ে বিষাদের আঙিনায়
তোমার বিরহ গন্ধ ছড়ায় আঁধারে
এলেই মনে হয় ছিলে বহুকাল ধরে,
গেলেই হয়ে যাই বিবর্ণ শুষ্ক তৃণলতা!
এ কেমন ভ্রান্তি বলো চোখের পাতায় জুড়ে থাকো
যেতে যেতে অবুঝ চোখে ফিরে ফিরে পিছু দেখো।