তোমার জন্য কষ্ট কুড়াই

তুমি বলেছিলে,
এক রংধনু বিকেলে ফাগুনী হাওয়ায়
উড়াবে আমার চুল।
হৃদয়ের দক্ষিণা বারান্দাটা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম তোমায়।
তুমি বলেছিলে,
ওই দেখ, নদীর তীরে কেমন সাঁতার কাটে বালিহাঁসেরা!
হৃদয় মাঝে কোদাল টেনে টেনে
মধুমতি নদী কেটেছিলাম তুমি সাঁতার কাটবে বলে।
তুমি বলেছিলে,
বিমলদার উঠুনের পাশে গোলাপ গাছটি তোমার প্রিয়।
রাতারাতি আমার মন মন্দিরে মধুবন গড়েছিলাম
হাস্নুহেনা, জবা, গুলাপ, শিউলী
সাত রঙা ফুলে সাজিয়ে ছিলাম বাগান।
তুমি বলেছিলে,
অমাবস্যা তোমার ভাল লাগে!
আমার জেগে থাকা চাদনী পসর রাতে
এক ফালি জ্যোৎস্নার আলো কুড়িয়েছিলাম কালো চাদরে।
তুমি বলেছিলে,
বৃষ্টির ছম ছম শব্দে
স্বপ্নেরা তোমায় ভাসিয়ে নেয় স্বর্গ রাজ্যে।
অশ্রু সব দু’হাতে মুঠো ভরে
বৃষ্টির ঢল নামিয়েছিলাম তোমার একাকী সন্ধ্যায়।
তুমি বলেছিলে,
মিছে প্রেমে কেটে গেছে বিশটি বছর
একটু উষ্ণতা যদি পাই ঘুচিয়ে নেবো হিসেব নিকেশ।
যোগ বিয়োগের সূত্র ভুলে জীবন খাতার পাতাগুলো
মেলে ধরে ছিলাম তোমার সামনে নতজানু হয়ে।
অবশেষে তুমি বললে,
কষ্ট কুড়াতে তোমার ভালো লাগে!
আমি কষ্ট কুড়াতে পথে বের হলাম!
সেই বছর ধরে,
পথে পথে রোদ বৃষ্টিতে;
আজো আমি কষ্ট কুড়োচ্ছি; তোমার জন্যে।