কে তুমি

মধ্যাহ্ন প্রহরে দরজার ওপাশে কড়া নাড়ো…
কে তুমি?
কে তুমি ছন্দের ঝঙ্কারে অসময়ে জাগিয়ে তুলো আমায়?
কে তুমি হৃদয়ে অজানা সুরের তোলপাড় তুলে
মায়ামোহে আচ্ছন্ন করছো আমায়!
ভীত সংকিত দুর্বল পায়ে
হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যাই এক-পা দু-পা!
কান পেতে শুনি দরোজার ওপাশে তুমি
গায়ের সুভাস ছড়িয়ে,এপাশে আমি
প্রবল ইচ্ছে ক্ষরায় ফাটা বুকে,
চর যেমন জাগে নদীর যৌবন হারানোর শোকে
পঞ্চইন্দ্রিয় সচল এ কার ডাকে?
কে তুমি দরোজার ওপাশে কড়া নাড়ো অসময়ে?
ইচ্ছে হয় কপাট দেই খুলে
সময়-অসময়ের হিসেব ভুলে,
এ কার ডাকে মন উড়ে, ঘর ছেড়ে বাহিরে!
একি প্রেম!
অসময়ের প্রেম!
প্রেম, সে তো ঘরের কোণে ভাঙা টবে
অযত্নে রাখা ফুল!
নাকি অসময়ের কিঞ্চিৎ ভুল?
সুপ্ত লয়ে, হয়তো অভিমান বা অসময়ে
মন ছুটে ওই দরোজার ওপাশে!
অসময়ের প্রেম…
তুমি নিষিদ্ধ জেনেও
মনের আকাশ বেদনায় হয় নীল।
অসময়ের প্রেম, কেন এলে তবে
অসময়ে বাড়াতে আমার সময়ের দাবী।
দরোজার ওপাশে কে তুমি
মধ্যাহ্নে হয়ে উঠো আমার কাব্যের উপাসনা?
তুমি যাও ঘরে ফিরে
মন উড়ে, ওই বুনো ঝড়ে
দরোজার ওপাশে কড়া নাড়ো
কে তুমি?