ইন্দ্রনীল ৩

ইন্দ্রনীল,

ঘুমিয়ে পড়েছো? উঠে বসো। একটা গল্প শোনাবো তোমায় আজ। এক যুগ ধরে শরীরের কোষে, অনু-পরমানুতে ছড়িয়ে থাকা বিষক্রিয়া পুষ্প-শূন্য বৃক্ষের মত লালন করে ভিতর আড়াল করা গোপন অশ্রু নিয়ে, বিভ্রান্তি নিয়ে আজ ফিরে দেখা দুঃখ আমার। নোনা ঢেউগুলো আকাশের গায়ে আঁচড় কেটে যায়, ঘাসফড়িং সবুজের কথা ভুলে যায়। ভাবতে গেলেই পৃথিবী আটকে পড়ে আঁধারের গোলাকার কুন্ডলীতে। স্তব্ধ আমি দুর্গন্ধময় পরমানু ছড়িয়ে মিশে আছি আদি হতে আজ অবধি তোমার সত্তায়। আমার নৈঃশব্দ্যের ভাষায় ঘুণ ধরা এক কালো রাত, এক উদাস করা গোপন কান্নার ধ্বনি ঘসে ঘসে বুকের ছাতি ক্ষত বিক্ষত করে নখের আঁচড়ে স্পষ্ট হয়ে উঠে ব্যথা।

ইন্দ্রনীল,

সেদিন শুধু মনে পড়েছিল পাকা ধানের ঘ্রাণ। মায়াবী কল্মীলতা আর সংগোপনে ভিতরে বেড়ে ঊঠা আশ্চর্য শেকড়-বাঁকর। দেখেছি ওরা একে একে কত ভয়ংকর হয়ে উঠছিল। একটি তারা খসে পড়েছিল, ডাহুক পাখীর সুরে কেঁদে উঠেছিল প্রজাপতি। দিগন্তের ওপারে এক টুকরো আকাশ ধসে পড়েছিল সেদিন। আমি শেষ হয়ে গিয়েছিলাম সে রাতেই।

ইন্দ্রনীল,

তোমার বুকের ধ্রুব ছন্দময়তায় লুকিয়ে রাখো আমার নষ্ট মাংসপিন্ডখানি। আমার বুকের ভিতর খুঁজোনা আমায়। সেখানে কেবল দুর্গন্ধময় কাঁদা আর কিছু অদৃশ্য ছোপ, যা আছে বাকি, একটি গভীর নীলের মৃত দানার মতই তা তোমাতে আছড়ে পড়ে।

ইন্দ্রনীল, অসহনীয় এক গভীর শোকের পরও, জানালার ফাঁকে এক ফালি অলুক্ষণে জোছনা হয়ে ভাগ্য লিখন আমায় ব্যথা দিয়ে যায়।