ইন্দ্রনীল ১

ইন্দ্রনীল..

কেমন আছো ইন্দ্রনীল? অনেক দিন দেখা নেই। কাল হঠাৎ মধুমিতার সাথে পল্লবীতে দেখা।ভাবলাম তোমার ঠিকানা নিয়ে আড়াল করে রাখা তোমার পুরানো বাগানটা একটু তছনছ করে দেই।

আমাকে মনে পড়ে ইন্দ্রনীল? আমার খুব মনে পড়ে। বহুবার, বহুদিন, বহু বসন্তে তোমাকে মনে পড়েছে।

তুমি কি এখনো পেট এর ব্যথায় কাতরাও?

এখনো কি সেই মনভোলাই আছো? রাতে খেতে ভুলে যাও? মনে আছে ইন্দ্রনীল, এক চাদরে জরাজরি করে শীতের সন্ধ্যায় আমরা কফি খেতে যেতাম আর এক কাপ কফি ভাগ করে খেতাম?

মনে আছে তোমার, ভোরের আলো ফোঁটার আগেই চুপিসারে দীপিকাদের গাছের তলে বিছিয়ে থাকা শিউলী ফুলগুলো কুড়িয়ে, তোমার জানালার পাশে রেখে আসতাম? ল্যাম্পপোস্টের আলোয় জ্যোৎস্না ছুঁতে না পারায় দু’জনে মিলে দূরের কোন আধাঁরের খুঁজে হেঁটে বেড়াতাম!

মনে আছে তোমার? অনেক দিন আগের কথা। আমি কিন্তু ভুলিনি ইন্দ্রনীল।

মনে আছে, আমার একলা রাতের গল্প হয়ে তুমি আমার কপালে চাঁদ এঁকে আমায় ঘুম পাড়াতে? কতবার চেয়েছি আমি তোমায় ঘুম পাড়াবো, কিন্তু প্রতিবার আমি ঘুমিয়ে যেতাম তোমায় রেখে।

মনে আছে তোমার, আমার নিঃশ্বাসের শব্দ না শুনলে তোমার ঘুম হতোনা?

আজ তুমি ঘুমোও ঠিকই, আমি এখনো জেগে থাকি। রাত আসে, ঘুম আসেনা। ঘুম পাড়ানী গল্প আর শোনা হয়না। রাতের আধারে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দে স্মৃতিগুলো হাতিয়ে বেড়াই।

জানো ইন্দ্রনীল, যে চুলের স্পর্শের জন্য আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা যেত বেড়ে, সেই চুল কবেই পড়ে গেছে। এখন আর গুচ্ছ গুচ্ছ রেশ্মী চুলগুলো আগের মত নেই। ডাক্তার বাবুর ছাই পাশ ঔষধ খেয়ে সব গেছে!

ও হ্যাঁ! বলতে ভুলে গেছি! যে সোনার কাঁকনগুলো তুমি গড়িয়ে দিয়েছিলে, গেল বছর তা সুনীল কাকার মেয়ের বিয়েতে দিয়ে দিলাম। সোনার কাঁকন ছাড়া হতভাগীর বিয়ে হচ্ছিলোনা। আর যে বট গাছটার নীচে বসে আমাদের স্বপ্নগুলো বোনা হতো, ওই গাছটাও মোড়ল কাকা কেটে দিয়েছে।

জানো ইন্দ্রনীল, তোমার লেখা শেষ চিঠিটা আজো আছে। লেখা গুলো অস্পষ্ট! ভাঁজে ভাঁজে দাগ পড়েছে। গোলাপের পাপড়ীগুলো শুকিয়ে মচমচে, এখনো অবসর সময়ে পাপড়ীর ঘ্রাণ নেয়ার বৃথা প্রয়াস চালাই। গোটা গোটা হাতের লিখাগুলো বার বার পড়ি। চোখ ভিজে উঠে! ভেবনা তোমায় না পাওয়ার কষ্টে। বয়স হয়েছে তো! চোখে নানান রোগ।

মনে আছে ইন্দ্রনীল, আমার একটা স্বপ্ন বাক্স ছিল? ২১ টা স্বপ্ন জমা করেছিলাম তোমায় নিয়ে। এখন আরো ছয়টা স্বপ্ন জমা করেছি। লাল, নীল বেগুনী,হলদে হরেক রকমের স্বপ্ন। বাক্সে আমার ধূলি পড়ে আছে বহু বছর খুলে দেখিনি। তবে স্বপ্নগুলোতে বিষাদের শ্যাওলা জমে গেছে।

গোধূলি লগ্নে কোন একদিন সময় করে এসো আমার বহু বছরের পুরানো স্বপ্নগুলো একটু ছুঁয়ে যেও, নয় সঙ্গে করে নিয়ে যেও।

আর যদি পারো, কোন জলদস্যু কিংবা প্রভুর খোঁজ দিও। যদি স্বপ্নের বাক্সটি বেচতে পারি!