মানসিক চিন্তার তিনটি স্তর!

10660087_269234813286437_7198872484153339369_n

 

 

মানসিক চিন্তা ভাবনার ৩ টি স্তর………!
——————————————-
Written by ডার্ক এভিল 
[ February 2012 as a part of Human psychology research based Test]
—————————————————————————————————–

মানুষের জন্মের পর থেকেই তার যাবতীয় মানসিক চিন্তাভাবনা ৩ টি পদ্ধতিতে সংগঠিত হয়। এর কোনটাই আমার আবিস্কার না, সিগ্ম্যান্ট ফ্রয়েড এর আবিস্কার। আমি শুধু পুরো ব্যাপারটা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
পদ্ধতি ৩ টি হলঃ ইড, ইগো, সুপার ইগো.

ইড ( Id )জন্ম হতেই থাকে, আমাদের যাবতীয় চাহিদা এই দলের অন্তর্ভুক্ত, যেমন খাদ্যের প্রয়োজন এবং এর পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজন। এখানে উল্লেখ্য যে, “ইড” কিন্তু মানুষ এবং পশু সবার মাঝেই সমান ভাবে আছে। “ইড” এর কোন মানবিক দিক বা বিকাশ নেই। ” ইড ” সম্পুর্নই লোভ লালসা ও কাম চিন্তায় ভরপুর। ” ইড ” এমন ভাবে মানুষ কে প্ররোচিত করে যে, মানুষ প্ররোচনায় পরে যে কোন সামাজিক/অসামাজিক অপরাধ থেকে শুরু করে, খুন পর্যন্ত করতে দ্বিধাবোধ করে না। এক কথায়, “ইড” আপনার ভিতরের সুপ্ত পশু !

এরপর আসে ইগো ( Ego ),যা আমাদের বিশ্লেষন ক্ষমতা এবং যুক্তিতর্কের সাথে চিন্তাভাবনা করতে শিখায়। ন্যায়/অন্যায়, ইচ্ছে/অনিচ্ছা, কিংবা পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে। এক কথায় দুই এর মাঝে সামঞ্জস্য রক্ষাকারী। ইগো না থেকে, কেবল যদি কারো ভিতর ইড কাজ করতো, তাহলে সে অমানুষ বা উন্মাদ হয়ে যেত।

সর্বশেষে, সুপার ইগোকে (Super Ego) বলা যেতে পারে মানুষের বিবেক। “ইড” যখন মানুষের কামনা-বাসনা পূরনে উদ্দীপ্ত করে, “সুপার ইগো” তখন তাকে বাঁধা দেয়। “সুপার ইগো” সবসময় মানুষকে মানবিক চাহিদার উর্ধে থেকে ভালো কাজ করতে উদ্দীপিত করে। তবে কারো ভিতর যদি আবার কেবল সুপার ইগো কাজ করে, তাহলে সে সাধু-সন্নাসী হয়ে যাবে। ইগো এই দুই অবস্থার মধ্যে ( ইড ও সুপার ইগো) ভারসাম্য রক্ষা করে থাকে।

একটা উদাহরণ দেয়া যাক (জাস্ট উধাহরনের স্বার্থে কাল্পনিক ভাবে গল্পটি তুলে ধরা হলো ) :
ধরুন,আপনি নতুন বিয়ে করেছেন। আপনি এক্বটি ভালো জব করেন। আপনার সহকর্মী রিমা কে আপনার ভালো লেগে গেলো। এখন আপনার ইচ্ছে বা বাসনা হচ্ছে রিমার সাথে বিছানায় যাওয়া ।
কিন্তু সামাজিক রীতিনীতি ও লোক লজ্জার ভয়ে আপনি মনের গোপন ইচ্ছা টা কে এভয়েড করতে চাচ্ছেন। এখানে আপনার পর নারীর প্রতি আসক্তি টা হচ্ছে “ইড” । আর সেই আসক্তি টা কে সর্বদিক ভেবে এড়িয়ে যাওয়ার ভাবনা টা হচ্ছে আপনার ” সুপার ইগো” । এখন আপনার মনে সুপার ইগো কাজ করছে বলে ” ইড” এখানে বিক্ষিপ্ত। এই বিক্ষিপ্ত অবস্থাকে শান্ত করার জন্য এখন কাজ করবে “ইগো” । । সমাজকে দেখানোর জন্য এখন আপনি ঘুমাবেন আপনার স্ত্রীর সাথে কিন্তু আপনার ” ইগো ” এখন আপনাকে স্বপ্নে ভাবাবে যে আপনি আপানার স্ত্রীর সাথে নয়, আপনার কলিগ রিমার সাথে আনন্দ উপভোগ করছেন।

এখানে ইগো স্বপ্নের মাধ্যমে ভারসাম্য করে দিলো। একইভাবে জীবনের বিভিন্নে ক্ষেত্রে সুপার ইগোকে প্রধান্য দিয়ে আমরা আমাদের বিভিন্ন ইচ্ছা বা চাহিদা পূরন করতে পারিনা। এই ভয়ে যে; পাছে, লোকে কিছু বলে। আমাদের এই অপূরনীয় চাহিদায় বিক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মন। তখন মন বা ইডকে শান্ত করতে স্বপ্নে ” ইগো” আমাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে থাকে।

আর যদি আপনি এই “ইড অর্থাৎ মন ” কে প্রতিহত করতে না পারেন, তাহলেই ঘটবে পরকিয়ার মত বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ মুলক কাজ। ঠিক যেমন করে কার্তিক মাসের কামোত্তেজিত কুকুর । কেননা কুকুরের মনও নেই ,নেই ইড ,ইগো ,সুপার ইগো । আছে শুধু শরীর,ক্ষুদা আর একটি যৌনাঙ্গ । আমরা মানুষ, কুকুর নই। তাই আমাদের ” মন অর্থাৎ ইড ” আছে, সেই সাথে আছে আছে ইচ্ছের স্বাধীনতা। পাশাপাশি আছে সেই মনের অন্যায় কে প্রতিহত করার মত ” সুপার ইগো অর্থাৎ বিবেক” । যখন বিবেক এর কারনে মন খুব..আর যদি আপনি এই “ইড অর্থাৎ মন ” কে প্রতিহত করতে না পারেন, তাহলেই ঘটবে পরকিয়ার মত বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ মুলক কাজ। ঠিক যেমন করে কার্তিক মাসের কামোত্তেজিত কুকুর । কেননা কুকুরের মনও নেই ,নেই ইড ,ইগো ,সুপার ইগো । আছে শুধু শরীর,ক্ষুদা আর একটি যৌনাঙ্গ । আমরা মানুষ, কুকুর নই। তাই আমাদের ” মন অর্থাৎ ইড ” আছে, সেই সাথে আছে আছে ইচ্ছের স্বাধীনতা। পাশাপাশি আছে সেই মনের অন্যায় কে প্রতিহত করার মত ” সুপার ইগো অর্থাৎ বিবেক” । যখন বিবেক এর কারনে মন খুব বেশী হতাশায় ভুগে, তখন সে হতাশা কে কাটিয়ে সামাজিক নিয়ম এর ভিতর থেকে, দুধের স্বাদ ঘুলে মিটাতে “ইগো” আপনাকে সাহায্য করে।