চাকরী টা হলে

রোজকার মত চিৎকার চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙ্গলো। মা তার অক্ষম ছেলের অক্ষমতায় সুরে সুরে ভর্ৎসনা দিয়ে যাচ্ছেন।

বিরক্তিতে সিগারেটটা ধরালাম।

একটা চাকরি হোক। মাসের প্রথম বেতন থেকে মাকে দুইটা জামদানি কিনে দেবো। কখনো দামী শাড়ীতে মাকে দেখিনি।

বাবার চশমাটা অনেক পুরনো হয়েছে। নতুন একটা এনে দিবো।

ভাবছি চাকরিটা হয়ে গেলে…. অঞ্জনাকে ঘরে তুলবো। লুকিয়ে লুকিয়ে রোজ কলেজে যাওয়ার পথে, আর দেখতে ভালো লাগেনা।

চাকরিটা হয়ে গেলে, একবার গ্রামে যাবো। আলী চাচার জন্য একটা লুঙ্গি আর পাঞ্জাবি নিয়ে যাবো। শুনেছি চাচা আজ কাল আর চলতে পারেন না। অসুখের ভারে শয্যাশায়ী। ছোট বেলায় কত হাওয়াই মিঠাই না খাওয়াতো চাচা।

চাকরিটা হোক.. এক জোড়া জুতো কেনা দরকার। পায়ের জুতোটা বছর কয়েক পুরনো। একটা চাকরি বড় দরকার।

বিরক্ত মুখে মা এক কাপ চা দিয়ে গেল। আহ!!! মা এর হাতের চা….. মনটা এক নিমিষেই আনন্দে ভরে উঠল। ভাবছি চাকরিটা হলে মাকে দুটো হাতের বালা গড়িয়ে দেব। কি সুন্দর আমার মা এর হাত!

 

ডার্ক এভিল