শুভদা ২


শুভদাকে কথা দিয়েছিলাম, প্রতি ভরা পূর্ণিমায় তাকে নিয়ে কবিতা লিখবো। হেলায় হেলায় কত বসন্ত গেলো। কবিতা লিখা হয়ে উঠেনি।
যে বছর সালেয়া দিদির মা হাত ভরা সোনার কাঁকন পরে বেড়াতে এলো আমাদের বাড়ী, মা এর চোখ এক ভীষণ ভালো লাগায় ঝলমল করে উঠতে দেখলাম। মা’কে কথা দিয়েছিলাম চাকরীটা হলে দু’টো সোনার কাঁকন গড়িয়ে দেবো। আরো কতজন কে যে এই এক জীবনে কথা দিয়েছি, হিসেব নেই। রাখা আর হয়ে উঠেনি। চাইলেও পারিনা।
মন যে কত কথা বলে! জীবন চলে নিয়মের গতিতে। জীবন থেমে থাকেনা। আমার এক জীবনের দেয়া কথা ,আমার আরেক জীবনের কষ্ট।
কত রজনী গিয়েছে কেটে বর্ণমালায় সুঁই সুতো গুঁজে শব্দের মালা বানাতে চেয়েছি। হয়না। ফাগুনে ফাগুনে কতবার গাছের পাতা গিয়েছে ঝড়ে, কত বসন্তে কদমের ঘ্রাণে ধরনী উঠেছে কেঁপে! ভরা পূর্ণিমায় অলৌকিক ইন্দু প্রভায় মানব সভ্যতা কতবার মেতেছে উল্লাসে তবু, আমি কথা রাখতে পারিনি। ধরনীর বুকে কারো কিছু যায় আসেনা।
ভ্যাপসা গরমে চারিদিক উত্তপ্ত! জানালাটি খুলবো কিনা ভাবছি! অতঃপর বন্ধ জানালটি খুলে দিলাম অনেক দিন পর! সেই যে কবে খিল দিয়েছিলাম, মনে নেই। যে বছর জামাল চাচার উঠোন সোনালী ধানে ভরে গেল। না’কি যে বছর কুসুমকে ভালোবাসার অপরাধে পাথর মারা হয়েছিল! ঠিক মনে পড়ছেনা।
আজকাল অনেক কিছুই মনে পড়েনা।