শুধু ঐশীকে নয়, গোটা সমাজকে ফাঁসিতে ঝোলানো হোক


মা-বাবাকে হত্যার দায়ে কিশোরী ঐশীর ফাঁসির আদেশ-নিঃসন্দেহে সমাজের এক শ্রেনির আবেগী মানুষের জন্য এটি চমকপ্রদ খবর।
কোন এক বিতৃষ্ণায় আমি ঠিক খুশী হতে পারছিনা! আমার দুঃখ হচ্ছে। দুঃখটা ঐশীর ফাঁসির আদেশে নয়, দুঃখটা গোটা সমাজকে নির্দোষ ছেড়ে দেয়ায়।
একদিকে ঐশীর ফাঁশির আদেশ সঠিক মনে হলেও, অন্যদিকে প্রশ্ন জাগে, হত্যার দায়ে কেবল ঐশীকে ফাঁশিতে ঝুলিয়ে, আসল অপরাধীদের বিনাবাক্যে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে কেন? শুধুমাত্র অপরাধীকে ফাঁসি দিয়ে, অপরাধ সৃষ্টিকারী সমাজ ব্যাবস্থা এবং দায়ীত্বহীন পরিবার ও রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোকে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে কেন?

ঐশী ইয়াবা আশক্ত ছিল। ইয়াবা এমন এক ঔষদ যা মানুষের মস্তিষ্ককে অসুস্থ্য করে শূন্য করে দেয়। ইয়াবার আরেক নাম পাগলা ঔষদ। এ পাগলা ঔষদ নিয়মিত নিলে শারীরিক নানান উপসর্গের পাশাপাশি মানুষের হ্নদস্পন্দনের গতি, রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাস বেড়ে যায়। মস্তিষ্কের ‍সুক্ষ্ম রক্তনালীগুলোর ক্ষতি হতে থাকে এবং কারও কারও এগুলো ছিঁড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্মরনশক্তি কমে যায়। এক সময় মানুষ পাগল হয়ে যায়। সিজোফ্রেনিয়া, হেলোসিনেশন, এমনকি আত্মহত্যা ও অপরাধ প্রবনতা বেড়ে যায়।
ইয়ায় আশক্ত একজন অসুস্থ্য মস্তিষ্কের কিশোরীর কাছে, পিতা-মাতাকে খুন করা, অনেকটা মুরগী জবাই করার মতই স্বাভাবিক ঘটনা।
কেউ অপরাধী হয়ে জন্ম গ্রহন করেনা। সমাজ অপরাধী তৈরী করে। ঐশী একদিনে অপরাধী হয়ে উঠেনি। ঐশী তার পরিবারের দায়ীত্বজ্ঞানহীনতায় বহদিন ধরে অপরাধী হওয়ার সকল উপকরণ এক এক করে যোগার করছিল। পরিবার হচ্ছে একটি শিশুর প্রাথমিক পাঠশালা। সেখানে যদি শিশুর মানবিক, নৈতিক ও ধর্মীয় ভীত শক্ত করে গড়ে তোলা না হয়, তবে সে শিশু উচ্ছন্নে যেতে বাধ্য। অনৈতিক উপায়ে বিত্তবান হতে গিয়ে ঐশীর পরিবার তাদের মেয়েকে দিয়েছেন অবাধ স্বাধীনতা। এতো স্বাধীনতা নয়, এ যেন স্বাধীনতার নামে মাদক দ্রব্যে জড়িয়ে সন্তানকে অনৈতিক জীবন যাপনে লালিত করা!  যতদিন পারিবারিক স্নেহ, শাসন, ও শিক্ষার আলো একটি শিশুর গায়ে উষ্ণতা না দেবে, ততদিন ঐশীর মত হাজারো অপরাধী ঘরে ঘরে জন্ম নেবে।
সমাজের অলিগলিতে মাদকের অবাধ বিচরন ও গতি প্রবাহ যতদিন বন্ধ না হবে, ততদিন একের পর এক ঐশীদের জন্ম হতেই থাকবে।
যতদিন আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রসাশন ন্যায়-অন্যায় বিচারে অপরাধের প্রতি সক্রিয় না হবে, ততদিন ঐশীদের জন্ম হতেই থাকবে।
আইন তার নিজস্ব নিয়মে রায় দিয়েছে। কিন্তু এই গর্হিত অপরাধের পিছনে পারিবারিক অসচেতনতা, পিতা-মাতার দায়ীত্বহীনতা, সমাজের গড ফাদারদের দ্বারা মাদকের রমরমা প্রসার ও বিস্তৃতি, সামাজিক ব্যাভিচার ও নৈতিক এবং ধর্মীয় অনাসৃষ্টির উপর রাষ্ট্র ও সমাজের উপেক্ষিত দৃষ্টির প্রতি আইন একটি বাক্যও খরচ করতে রাজি নয়।
দুঃখ এখানেই। আসল অপরাধীরা অদৃশ্য রয়ে যায়। তাদের হেফাজত করার জন্য বিশিষ্ট মহল রয়েছে। ঐশীদের জন্য মানবিক ও সামাজিক সহায়তায় কেউ নেই।
শুধু ঐশী কে নয়, গোটা সমাজটাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হোক।
অপরাধ ও অপরাধী তৈরীকারী সকল সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় যারযদের ফাঁসীতে ঝোলানো হোক।
ঐশী একা অপরাধী নয়। গোটা সমাজ অপরাধী। সমাজের বিচার করে কে?
পরিশেষে, রাষ্ট্র ও বিচার বিভাগকে মানবিক হওয়ার আবেদন করছি।

 

___HB Rita