মৃন্ময় ৮

 

মৃন্ময়,

আমার ভুল। প্রতিবারই আমি ভুল করি, ভুলে ভুলে তুমি শোধরে নাও। শোধরে দিতে গিয়ে আরো একটিবার আমার বদভ্যাসটা বাড়িয়ে দাও।

মৃন্ময়, কতবার ভেবেছি, শান্ত কোমন শীতলক্ষ্যার মত বয়ে যাবো তোমার হৃদ নদে! ঢেউ এ ঢেউ এ অশান্ত করে তুলবো তোমার ভিতরের তুমিকে। যতবার ভাবি, ততবারই সব কেমন এলোমেলো হয়ে যায়! চট করে রাগটা যে কোথা হতে এসে ঝাপটে ধরে আমায়! একটা মুহূর্তের জন্যে, সব কেমন অচেনা হয়ে যায়! চেনা মুখটাও ঝাপসা হয়ে আসে চোখের সামনে।পৃথিবীর অতি কোমল সবুজ ঘাসেও গা কাঁটা দিয়ে উঠে। ঘাসের উপর শিশির বিন্দুগুলো কেমন বাসি খাবারের উপর অবহেলিত উড়ন্ত মাছির মত লাগে; ছুঁতে গেলেই গা ঘিন ঘিন করে উঠে।

মৃন্ময়, কেমন বদলে যাচ্ছে পৃথিবী! মানুষগুলো সব অস্পষ্ট। স্মৃতিরা কেমন বিবর্ণ ফ্যাকাশে হয়ে আছে।

ওই দেখো, নীলাকাশটাও কেমন কালো মেঘে ছেঁয়ে গেছে। রাতের আকাশে এক কোণে কেবল হৃদয় ভাঙা এক টুকরো চাঁদ। নক্ষরের মেলা বসেনা আঁধারের আসরে আর! চারপাশ কেমন তপ্ত রোদে পুড়ে যাচ্ছে। দেবদারু,অশ্বথের তলে ছায়া পড়েনা আজ বহুদিন। পথে পথে উড়ে অচেনা বাতাস; বাতাসে লাশের গন্ধ।  মানব দেহে কেমন কর্পুরের গন্ধ, গন্ধে গা গুলিয়ে উঠে!

দেখো মৃন্ময়, যেখানে উড়েছে বহুকাল আগে নাটাই সুতোয় রঙিন ঘুড়ি, আজ সেখানে শকুনীরা দল বেঁধে ভয়ংকর নৃত্যে করে খেলা। সব বদলে গেছে, পৃথিবী বদলে গেছে। আমার ভীষণ ভয় করে। ভয়ে ভয়ে গুটিয়ে নেই নিজেকে নিজের ভিতর। বাহির হতে আমার বড় ভয়।

মৃন্ময়, আমার কেমন অসহায় লাগে। যতবারই তোমার হাত ধরে মেঘদূতের ভেলায় চড়ে ভেসে যেতে চাই, ততবারই কি যেন অদৃশ্য ছায়া আমার পথ আগলে দাঁড়ায়। তোমায় ছুঁড়ে ফেলি আমি অন্ধকারে। দৌড়ে পালিয়ে আসি নিজের ভিতর। তুমি দু’হাত বাড়িয়ে শুন্য দৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে একা আমার পথপানে। আমি ফিরে যাই। আবার ছুটে আসি, তোমার বুকে আছড়ে পড়ি। কান্নার বাঁধ ভেঙে অশ্রু নয়নে সিক্ত করে দেই তোমার বুক। তুমি আদরে জড়িয়ে রাখো আমায় তোমার বুকের গহীনে। আবারো ভুল করি। আবারো তোমায় ছেড়ে পালাই। ভুলে ভুলে তুমি আমায় শোধরে দাও।

মৃন্ময়, পৃথিবী বদলে গেছে, তুমিও বদলে যাও। তোমার মুক্তি কেবল বদলে যাওয়ায়। তোমার স্বস্তি কেবল আমায় ফেলে যাওয়ায়। তুমিও বদলে যাও মৃন্ময়।