মৃন্ময় ১৬

অতঃপর,

সে ফিরে গেলো। আমার চোখের গোলাগার বৃত্তে, অসহায়ত্ব স্থির দাঁড়িয়ে রইলো। আমি এখন চেতনাহীন মহীরুহ। চোখের ভিতর বৃত্তটি নড়ছে! ধীরে ধীরে স্থিরতা গলে গোলাকার ভেদে চোখ উপচে পড়ছে; যেন খুঁজে পেলাম আমার চোখে আরেক আর্কটিক বরফ মহাসাগর। কাল ভেদে, অবস্থান ও ভূমন্ডলের প্রয়োজন অনুসারে আর্কটিক যেমন কখনো শোকে মুহ্যমান হীম শীতল ভূমি, আবার কখনো তাপে পরিতাপে গলিত নিঃসৃত অশ্রুধারা ভূখন্ড!

অসহায়ত্ব এমন নির্মম হয়! এমন বধীর করে দেয় মনুষ্যকূলকে! কোন এক দ্বিপ্রহরে ভুল ক্ষণে, ভুল করে, তন্দ্রাচ্ছন্ন কারো জন্যে চোখের একপলক ফেলা কি এমনি নির্দয়ভাবে ফিরে আসে কোন আরেক অপেক্ষামান গোধূলি লগ্নের শেষ বিকেলে? সহস্র রজনী এক করে জ্যোৎস্নার আলোয় জেগে জেগে সদ্য মাজা রুপোর থালায় চাঁদের আলো কুড়িয়ে, আজ অবেলায় ক্লান্ত আমার হেয়ালী অলস মস্তিষ্ক কাঁধের উপর ক্ষণিকের তরে নুইয়ে পড়েছে! তাই বলে আমার হাজার তপস্যা বৃথা? আমার একজনম নষ্ট? তবে কি বলবো… পৃথিবী বড় নিষ্ঠুর? নাকি সে কেবল পৃথিবীর উপর বসবাসরত নিষ্টুর প্রাণীগুলোর হাতে গড়া নিয়মাবলী!

মেনে নিলাম। আমি পৃথিবীর রচিত সকল নিষ্ঠুররা মেনে নিলাম। যেদিন আমার অগ্নিমূর্তি নিন্মচাপ হয়ে ধরিনীর বুকে সুপ্ত আগ্নেয়গিরির হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটাবে, সেদিন হয়তো আমি সকল দ্বায়ভার থেকে চিরতরে মুক্তি নেবো।

ঘুমোবো, আমি ঘুমুবো! চোখের বিষাদ যেন মনকে পুড়িয়ে না দেয়।

থাকনা কিছু কষ্ট আমার চার দেওয়ালে বন্ধি

হোকনা কিছু কষ্টের সাথে একলা গোপন সন্ধি

চোখের পাতায় ক্লান্তির ভার আপন মনে হাসি

বিশ্বাসের পাতায় আজ নতুন হিসেব কষি।

সময় হলে ফিরবে সময়, অবিশ্বাসের দেওয়াল ফুঁড়ে

হার মানিনা, আনবো তোরে; অবিশ্বাসের কবর খুঁড়ে।