মৃন্ময় ১৪

এ শহর, পথের ধুলো আমার মনের কথা শোনে
দেয়ালের গা ঘেঁষে শ্যাওলা বিস্তর আবরণ
রাতের আঁধার আর আমি
আকাঙ্ক্ষায় দীপ্ত কিছু প্রহর, রাত জাগা বিরহের সুর
মৃন্ময়, তুমি আমার শ্বাসরুদ্ধকর এক জলবায়ু।
যদি পারো, এক চুম্বনে কিছু বিষ ঢেলে দাও
রক্তের শিরায় শিরায় অহর্নিশ তোমার স্পন্দন থেমে যাক
নয়তো আমার বুকের সস্তা জমিনে কবর খুঁড়ে দাও,
আমার অন্তিম দুয়ারে লিখো দুঃখের সাতকাহন।
স্মৃতির কাঁটাতারে কিছু অস্পষ্ট পোকার বসত
ফিরে আসে বারে বারে মেদুর মেঘমালা হয়ে
অবশিষ্ট যা ছিল বাকি;
শেষ হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাই আমি।
ঘুম ভেঙ্গে হঠাৎ দ্বিপ্রহরে,
অঝোর বর্ষণে হৃদয়ে সৃষ্টি হয় বেদনার জলাশয়
দেখি ছোট বড় ডিঙি নৌকায়
হরেক রকমের কষ্ট ভেসে যায় এপার থেকে ওপারে
অতঃপর, অদৃশ্য হয়ে যাওয়া মাঝ দরিয়ার
নৌকাটিও ফিরে আসে কিনারায়।
মৃন্ময়, হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে হাঁটু ক্ষত বিক্ষত
বুকের উপর ভর করে ধেয়ে আসি তোমার দরজায়
পথ তবু শেষ হয়না!
দীর্ঘশ্বাসে বুকের জমিনে ফাটল ধরে
মনে হয়,
আমার দীর্ঘশ্বাসের চেয়ে বড় সড়ক এই শহরের আর কোথাও নেই!
যদি না পাই এক জীবনে, তবে দুঃখ পেওনা।
আমি আসবো আজ নয়তো কাল
সেদিন যদি তোমার বুকের বাগিচায় ফুটে থাকে লাল গোলাপ
কিংবা নীল পদ্ম
তবে দুঃখ পাবোনা।
নদীর পাড়ের কাশফুল নয় পথের ধারের লজ্জাবতী লতা হয়ে
তোমার প্রস্থান কালে, পায়ে পায়ে জড়িয়ে থাকব
দেখা হবে; আজ নয়তো কাল।