মৃন্ময় ১২

বহুকাল ঘরের বাহির হইনা
ইচ্ছে করে আড়ালেই থাকি।
দুর্বোধ্য অন্ধকারে আমার অবাধ বিচরণ
কিছু অপূর্ণতা, ভ্যাপসা গরম আর আমি।
বহুদিন ছিলাম এ শহরের পথে পথে
ধূলিমাখা রৌদ্র-তাপে প্রখর উত্তাপে
ক্লান্তি আর একরোখা লোভের আকাঙ্ক্ষায়
কেবল বিপন্ন বিষাদ স্পর্শ করে গেছে আমায়।
অতঃপর,
নতুন একটা কিছুর অপেক্ষায় তৃষ্ণায় ধুকছিল আপন সত্তা।
ইচ্ছে হলো মিশে যাই ভেজা মৃত্তিকায়
নয়তো মেঘের আড়ালে ভস্মীভূত বায়ুতে
কচি পাতায় একবিন্দু শিশির কণা;
ছুঁয়ে দেখি শিয়রে বসা মৃত্যু!
অবশেষে অসম্পূর্ন প্রশ্ন –
কোথায় ছিল এতদিন আমার আমি?
 
মৃন্ময়,
শেষবার কবে সময়ের দর্পণে দেখেছি জীবন
মনে পড়েনা!
আজ দৈবক্রমে শিরায় শিরায়
মৃত্যু ও জানান দেয় তার অস্তিত্ব।
 
তোমাকে কিভাবে বলি মৃন্ময়,
বহুবছর আমি ডানা মেলে উড়িনা!
আকাশ ভরা তারা খসে পড়ে আমার দু’পায়ে
আনন্দে মেঘাকাশ যায় রংধনু দ্যুতি ছড়িয়ে
আমার মায়া ছুটে বিলীন হয়ে যাওয়া শিকড়ের পানে
যেখানে জীবন নিজেই জানেনা জীবনের মানে।
 
মৃন্ময়, এ যাতনার কোন নাম দিও না।
পথের পাশে আগাছার মত দিন দিন বেড়ে উঠে তোমার মায়া
কেউ না জানুক, আমি জানি
মৃণ্ময়ী আঁচলে এখনো এঁকে যাই
তোমার বিমূর্ত জলছবি।
যদি আর সুর না বাজে বীণায়
যদি থেমে যায় পাখির কোলাহল,
তবে আর রক্তপাতের ইতিবৃত্ত জানতে চেওনা
শুধু জেনে নিও,
সবুজ বৃক্ষের পত্র পল্লবে লিখে রেখে গেছি তোমার নাম;
স্বযতনে।
 
মৃন্ময়, দেখেছি মানুষ বড় বিচিত্র!
তোমায় ক’জন হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছে বলতো?
ভালোবাসার পেয়ালা হাতে ফুল গালিচা মাড়িয়ে,
আমার মত শুভ্র ভোরের স্নিগ্ধতা নিয়ে
তোমায় আর কে ভালবাসতো বলো?
চোখের কোণে আবছা আলোয় হীরক খন্ড চকচক করে উঠে
বুকে এক চাপা অভিমানে আমি কুঁকড়ে যাই।
মনে হয় আকাশে বাতাসে কেবল,
হরেক রঙের কষ্ট উচ্চচস্বরে আমায় উপহাস করে যাচ্ছে।
 
মৃন্ময়, তোমার শোকে
ঘাসজমিতে আমায় অভ্যর্থনা করে ছায়াস্মৃতি।
তবু ইচ্ছে হয়; আড়ালেই থাকি
তোমার জন্য ভালোবাসার সুতোয় গাঁথা বিরহমালা
না হয় থেকে যাক আড়ালেই।
পৃথিবীর শেষ দিনে না হয় পৃথিবী জানুক,
তার আড়ালেই রয়ে গিয়েছিল
আমার আড়াল করা যাতনার ভান্ডার ” মৃন্ময়”!