মৃন্ময় ১০

মৃন্ময়,
বহুদিন মেলেনি দেখা তোমার
নিভৃত সাধনে অসংখ্যবার ডেকেছি তোমায় হৃদয় রক্তরাগে
মুহূর্তের স্পর্শে বিষণ্ন হৃদয়ে
কেবল আকাশনীলায় একটি তারা খসে পড়ে।
 
মৃন্ময়,
নিশিকাব্যে তুমি জীবন্ত হয়ে উঠো একটি অনুকাব্য হয়ে
বিষণ্ন দৃষ্টিপ্রদীপ নিভু নিভু
তবু জলে উঠে জলজ জ্বলন্ত স্ফুলিঙ্গ হয়ে।
 
মৃন্ময় আমার,
দেখ সবুজের উপর বিছিয়ে দিয়েছি আমার নীল আঁচল
জমিন নয়তো বুকের ছাতি মাড়িয়ে যাও,
ঘুনে পোকা খুটে খুটে খাক পুরাণো জরাজীর্ণ চেয়ার,
ধূর্ত শিয়ালের চোখ জ্বলুক সারারাত
অসনীয় বিভ্রম সূর্যের নৃত্যে ধরাশায়ী বিভ্রান্ত দুপুর
সমুদ্রসঙ্গমে উড়ে যাক জলজ স্মৃতি;
তুমি থাকো আমার গায়ে গায়ে বক্ষবন্ধনীর সুঘ্রাণ হয়ে!
 
অতঃপর ভোর শেষে না হয় যেতে যতে
আস্তিনের ভাঁজে লুকিয়ে রাখা হেমলক দিও নাসিকারন্ধ্রে ছুঁড়ে
অনিদ্র মগজে নিশ্চিত মরণ জেনেও,
প্রহৃত সন্ধ্যা হয়ে ঢলে পড়ি তোমার লোমশ বুকে।
শুয়ে যাই লাশ হয়ে নিবিড় কুণ্ডলে
ভয়ানক রাত থাকে প্রবল তৃষ্ণায় জেগে
মেঘের সাথে সঙ্গ -ব্যর্থতার আকাশনীলায় দ্রোহ
আজ একটি আদিম সন্তান ফিরে যাবে তার গন্তব্যে।
 
অবশেষে,
শিশিরের গায়ে সাক্ষর রেখে
পুরানো বইয়ের মাঝ পৃষ্ঠা হতে
শুকিয়ে যাওয়া বিবর্ণ পাপড়িগুলো গুঁজে দেবো ঠিক;
তোমার নাভিমূলে!
মৃন্ময় আমার,
আমার চোখে আজ গ্রীষ্মের দাহ
তোমার চোখ জুড়ে বৈশ্বিক উষ্ণতার উদগীরণ।
নৈঃশব্দ্যের যাতনায় দেখোনা আমায়,
একদিন চলে যাবো, দেখে নিও
সব ছেড়ে; তোমাকে ছেড়ে।