মৃন্ময় ৭

ভেসে যাও তুমি
কষ্টের হ্রদ পেড়িয়ে
ভেসোনা চোখের জলে
আমারো কান্না আছে মৃন্ময়;
কাঁদিনা তুমি কষ্ট পাও বলে।
 
ভেসে যাও তুমি আটলান্টিকের গতিরোধে
ভেসে যাও শত সহস্র মাইল দূরে
শুধু ভেসোনা কষ্টের নোনাজলে
মৃন্ময়,তোমার বিরহে মন অনলে পুড়ে।
 
অনুর্বর মনে সন্তর্পণে
একি মায়ার ভ্রুণ জন্মেছে কোন অলুক্ষণে
ভেসে যাও তুমি মরা নদীর মত
আমিও ভাসি, ব্যথায় কাতর মনে।
 
ভেসে যাও তুমি প্রলয়ংকরী ঝড়ের মত
রেখোনা খরকুটো ফেলে আমার হৃদয়াঙ্গনে
আকাশ-বাতাস মহাকাল ছেড়ে যাও,
তবু কেন আমার কষ্ট বাড়ে ক্ষণে ক্ষণে!
 
অতৃপ্ত এক আঁজলা মায়ায় হৃদয়ে রক্তক্ষরণ
কাঁপন ধরে তিরতির করে বেড়ে উঠা মায়ার ভ্রুণে,
নিঃসৃত আবেগ শুঁষে ভাসিয়ে দিলাম তোমায়
মৃন্ময় অনাদিকাল ভেসে যাও তুমি
তবু কেন কষ্ট ঝরে চোখের কোণে।
 
তুমি বরং ভেসেই যাও
আমার চেতনা থেকে দূরে
নীলনদ নয়তো কৃষ্ণসাগরের হিমপ্রবাহে
তোমার নীলকষ্ট থাকুক পড়ে।
 
ভেসে যাও তুমি কচুরীপানার মত
বছর হতে শতাব্দী পেড়িয়ে
আঙুলের ডগা হতে মহাকাশ ছুটে যাক
কষ্ট যাক মায়ার বাঁধন ছাড়িয়ে।
এক পৃথিবী কাঁদুক তোমার শোকে
তবু ভেসে যাও তুমি কষ্টের বালিয়াড়ি ছেড়ে দূরে
কষ্টের তীব্রতায় তোমার বোবা কান্নারা আমায় ডাকে
আমি ঘর ছেড়ে পথে নামি;
দেখি, ঝাপছা চোখে মহাশুন্য যাচ্ছে সরে!