মৃন্ময় ৪৮

এই যে এদিকটাই এসো
চুপি চুপি ছায়ার আড়ালে না হয় একটু দাঁড়ালে
শুনে যাও আমার ইতিকথা
আজ বলি তোমায় চুপিসারে; ক্ষরতাপে পুড়ে পুড়ে
বিন্দু বিন্দু মুক্তদানা চোখের কোণে
কি যে দহনে বুকের ভাঁজে ছড়িয়ে পরে ব্যাথা।

একদিন এইখানটাতেই ছিলে তুমি
সুন্দর এক নক্ষত্রের খোঁজে,
প্রার্থনায় সমর্পন; ব্যাকুল প্রতিক্ষায়
যদি তোমার আংগুলের ডগায় খেলে যায় কারো ভালবাসা!

কি নিদারুন মায়ার যাদু ছড়িয়ে বাতাসে
পাশ কেটে গেলে সেদিন
আজ দেখি ঠিক এইখানটাতেই
বাতাবী লেবুর ঘ্রানে
আহত চাতকীনি ডানা ঝাপটে; অদুরে পরে থাকে বিমূর্ত স্মৃতি
শোকাতর প্রাণ তৃষ্ণায় ফাটে বিরহ গানে!

অবেলায় আজ মন কাঁদে নিঃসংকোচ যাতনায়
বিষন্নতা মল পায়ে হেঁটে চলে দিগন্ত রেখায়
তবু মনে হয়,
এই তো সেদিন এখানেই ছিল শিউলী ছায়াতল
খড়কুঁটো বিছানো শীতল মাটিতে এক মুঠো ভালবাসা হাতে।

ঢেউহীন ভয়ংকর সমুদ্র তীরে আজ কেবল আর্তনাদ আঁছড়ে পরে
এ প্রাণে আর বাঁতি জ্বলেনা মৃন্ময়!
উচ্ছিস্ট খাবারের মতই থালায় কোনায় পরে থাকি
বুকের ভিতর শীতল মৃত্যু কচ্ছপের মত গলা অবধি এগোয়
টের পাই আমার সময় আর বেশী নেই।

মৃন্ময়, বড় অবেলায় চৈতন্যদ্ধয় হলো এবার
গুনে গুনে এগারোটি বছর!
এখন কেবল প্রতিক্ষার পালা; একটি অবসানের!