মৃন্ময় ৪৭

মৃন্ময়,
পথের ধারে দেয়াল গুলো দেখেছো? লতা-পাতায় শেকড়েরা কেমন ঘিরে ফেলছে! একদিন এভাবেই শেকড়েরা বিস্তির্ণ হতে হতে শহরের সব দেয়াল ঘিরে ফেলবে। মাটি খুঁড়ে খোঁজে নেবে শেকড়ের সাথে শেকড়ের সন্ধি! শেকড় ছড়িয়ে পরবে শহর থেকে শহরে, গ্রাম থেকে গ্রামে। একদিন এ পৃথিবী পরিনত হবে গাড় সবুজ অরণ্য বৃত্তে। তবু একি বৃত্তে খেকেও, তোমার আমার দেখা হবেনা।

মৃন্ময় আমার,
দেখেছি পদ্মার পাড় ভাঙ্গন। দেখেছি কি শব্দে দালান ভেঙ্গে পড়ে। ঘর ভাঙ্গে, সম্পর্ক ভাঙ্গে। আংগুলের ডগা হতে স্বপ্ন ছুটে গিয়ে আশা ভাঙ্গে। দেখেছি জীবনথেকে জীবন ছুটে গিয়ে মন ভাঙ্গে। অতঃপর, মানুষ ও ভেঙ্গে পড়ে।
তোমায় কখনো দেখা হয়নি। কেবল শুনেছি। শেষবার যখন তোমায় শুনি, তুমি কাঁদছিলে। কেন কাঁদছিলে জানার আগেই আমার থেকে তুমি ছুটে গেলে।
অমন করে কাঁদছিলে! ভিতরটায় কেমন এক অজানা ব্যাথায় দুমড়ে মুচড়ে ফেটে পরছিল।সেই থেকে আর শুনা হয়নি তোমায়।

প্রতিটি মুহুর্ত এক বুক আশা নিয়ে মনে হয়, এই বুঝি তুমি ফিরে এলে!
শীত গেলো, শীত এলো। বছর ঘুরে বসন্ত এলো। ঢেউয়ের বুকে ঢেউ ফিরে এলো। দিন,মাস,সপ্তাহ পেরিয়ে বছর ফিরে এলো। ক্ষরতাপে উত্তাপের পর বৃষ্টি হয়ে এক টুকরো হাসি ফিরে এলো কৃষকের প্রানে। তিন বছর পর ও বাড়ীর বিনুদীর স্বামী ফিরে এলো। কত কি ফিরে এলো।
শুধু তুমি এলেনা ফিরে!

এক গোপন যাতনায় নিঃশ্বেস হতে হতেও বেঁচে থাকি। দেখি অন্ধকারে ঘরের কোনে ইঁদুর বেঁড়ালের লড়াই। অসস্থিতে জ্বানালা খুলে দাড়াই। দেখি ও বাড়ীর দোয়ার খুলে নিশিথে পাপ ঢুকে পরে গোপন কক্ষে। বিতৃষ্ণায় ছুটে আসি বিছানায়। অনুভব করি তুমি নেই!

মৃন্ময়, যদি খেয়ালী মনে কখনো ব্যাথার ঢেউ আসে, যদি বিভোর নিদ্রায় কখনো দুঃস্বপ্ন আসে, যদি তোমার বেঁচে থাকায় কখনো বিরক্তি আসে, তবে ফিরে এসো আমার দুয়ারে! আমি দু’হাতে সর্বশেষ পৃথিবীর প্রেমটুকু নিংড়ে নিয়ে তোমার প্রতিক্ষায় প্রতিক্ষমান।
আজ বহুদিন ঘুমাইনি মৃন্ময়। যদি চোখের পলকে তুমি এসে ফিরে যাও!