মৃন্ময় ৩৪

অতঃপর,

আমি তার হাত ধরে বসে রইলাম। মৃন্ময়ের চোখে রাজ্যের বিস্ময়! বার বার এদিক ওদিক দেখছে! আমি তার চোখের জল স্পষ্ট দেখতে পেলাম। আমাকে ফাঁকি দেওয়ার বৃথা চেষ্টায় সে মগ্ন!

আমি অনড়। শেষের অধ্যায়ে গল্পের সমাপ্তি টানার আগ মূহুর্তেও হয়তো মৃন্ময় ভেবেছিলো, তার দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে, একবার “ভালোবাসি” শব্দচয়নে তার প্রাণ কাঁপিয়ে দেবো। তার অসহায় দৃষ্টি আমার ভিতরটা নাড়িয়ে দিচ্ছিলো।

আমার চোখ ভিজে উঠলো। মুখ ফিরিয়ে নিলাম।

মৃন্ময় আমার হাতটি আলতো চেপে ধরলো। এবার আমি উঠে দাঁড়ালাম। নাহ! আর থাকা যায়না।

হনহনিয়ে দরজার দিকে হাঁটতে লাগলাম।

আমার দুর্বোধ্য অবহেলিত ভালোবাসা পড়ে রইল শুভ্র সাফেত বিছানায়! আমি ঝড়ের বেগে পালাচ্ছি। চোখের পানি আড়াল করার চেষ্টা করছি। পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর অসনীয় বস্তু হচ্ছে.. চোখের পানি। মানুষের একমাত্র দুর্বলতা! কিছু কিছু দুর্বলতা অন্যকে দেখাতে নেই, প্রিয় মানুষটিকেও নয়।

অনেকটা দূর চলে এসেছি। পিছনে পড়ে রইলো মৃন্ময়। জীবন সায়াহ্নে নির্জীব, নিথর এক মানব মৃন্ময়! হস্পিটালটির দিকে চেয়ে রইলাম অপলক। ছেড়ে যেতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। প্রকাশ্য হোক আর গোপন, ভালোবাসার মানুষকে ছেড়ে যাওয়া যায়না!

ফিরেও যেতে পারছিনা! মৃন্ময় আর পথের দূরত্বের ব্যবধানে, আমি ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছি!