বিনু-রানু-নসিমন

এত গুলো গল্প জমা হয়েছে আমার ঘরে। বলতে হবে, কাউকে তো বলতে হবে!কিন্তু কি করে বলি? কাকে বলি? বলতে গেলেই কেমন নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। না বললেও অস্বস্থিতে মারা যাই! এ এক অদ্ভুত যন্ত্রণা!

বিনুবালার বুকে খুব ব্যাথা। ন্যাওড়ে কুকুরের মত অতীত গন্ধ শুঁকে বেড়ায় ঘর আছে তো সুখ নেই! বিছানা আছে তো ঘুম নেই! ভালবাসা হাড়িয়ে যায় সময়ের স্রোতে শুকনো পাতার মত! দু’বেনী করা ছোট দুরন্তপনা মেয়েটি,পড়ার ফাঁকে ফাঁকে আংগুল নিয়ে খেলা করতে করতে শরতের নীলাকাশে চাপা কান্না চেপে আজ বোবা আর্তনাদে অন্ধকারে হারিয়ে যায়! জীবন চলে আসে গুটি পায়ে চেতনায় বিরহ কাব্যকথা হয়ে তবু জ্বলজ সংসারের বেঁচে থাকার প্রহসন থেকে যায়! বোকা মেয়ে, আজো ভালবাসার খুঁজে উদ্ভ্রান্ত! ভাবে, আহা! এই বুঝি ঘর হলো, বাসর হলো! এই বুঝি ইন্দ্রনীল এলো! অথর্ব মেয়ে,জ্বলে যাক তোর মায়ার বাসর! জ্বলে যাক তোর বুকের জমিন! কার কি যায় আসে? জুটা জিনিসে মুখ লাগাতে নেই!
ওদিকে রানু ভাবে, শুভদা যদি ফিরে আসতো! ভালবাসার নকশী কাঁথায় এফোঁড়-ওফোঁড় করে পদ্ম ফুটিয়ে তাকে উষ্ণতায় জড়িয়ে রাখতো। উপবাসী মন মুঠো মুঠো অনুতাপ ছুঁড়ে বুকের পাটাতনে আঘাত করে মেয়ে তুমি কাকে ডাকো? পৃথিবীর সকল নীল বুকে ধারণ করে জলতৃষ্ণায় অনাহারে;বুকের কষ্ট গলা টিপে তবু মেয়ের আশা জাগে! মরণ মরণ! পুড়া কপালী পুড়ে পুড়ে মরুক! মেয়েছেলের এত শখ কি ! দু’বেলা ভাত জুটলেই সারা। গরীবের প্রেম দেখে গা’জ্বলে!
হাজারো শোকের ক্রন্দন পিষ্ট করে অতশী তবু তাকে খুঁজে! ভালবাসা ভ্রুক্ষেপ ছুড়ে দেয়, সীমালঙ্ঘন করে তবু মন কেন স্পর্শ চায়? অতশী ভুলে যাসনে, ঘরের উপর ঘর হয়না!
ভুল প্রেমে কেটে গেল তিরিশটি বছর, তবু নসিমনের হুশ হলনা! নসিমন ভুলে যায় তার পুর্ব ইতিহাস; ভুলে যায় কষ্ট জলের লহরীর কথা। ভ্রান্তিঘোরে ভুল করে জননী কান পেতে শুনে মাতাল জোছনায় উত্তরীয় বাতাসের কথা। পৃথিবীর সকল আলো নিভে যাক, ঘুটঘুটে আঁধারে ক্ষুদ্রবিন্দু জ্বোনাকীর আলো হয়ে নসিমন জেগে থাকুক গুপ্ত কক্ষে। জননী, তুমি মরে যাও! বিরহী জলছাপ চিত্রাংকন হয়ে দুঃখ গেঁথে থাকুক তোমার গায়ে! অসময়ে কেন সময়ের গান গাও তুমি?

সময় চলে নিজের গতিতে শুধু গল্প গুলো জমা পরে আমার ঘরে! দুঃখে দুঃখে আমার উঠোন ভর্তি! যেদিকে হাত বাড়াই কেবল শোক সঙ্গীত। বিনু কাঁদে, রানু কাঁদে! অতশী, নসিমন ফুপিঁয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে! আমার কেবল যাতনা বাড়ে; আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।