গৃহকর্মী নির্যাতন: কেন?

ভোলা বোরহানউদ্দিন উপজেলার পৌর বালু ব্যবসায়ী হাওলাদার সেনেটারীর মালিক মো: রফিক হাজীর (যার প্রচলিত নাম বালু রফিক) স্ত্রী পাখী বেগম একজন নারী বলেই আমার ধারণা (আনলেস আদারওয়াইজ তিনি ট্র্যান্সজেন্ডার)। 

তিনি গত ২৭শে এপ্রিল অভিন্ন একটি কাজ করেছেন যা অতীতে কখনো শুনিনি। তিনি ১৫ বছরের একজন গৃহকর্মীকে ভাত পুড়া লাগার দ্বায়ে মারধর করে অবশেষে যৌনাঙ্গে মরিচের গুড়া লাগিয়ে দিয়েছেন। 

২০০২ সালের ২১শে আগষ্ট, বরিশালের ছবি রানীকে ধর্ষণ শেষে বিএনপির ক্যাডাররা যৌনাঙ্গে মরিচের গুড়া লাগিযে দিয়েছিল বলে শুনেছিলাম। ২০১৭ এর ১০ আগষ্ট দিনাজপুর সদর উপজেলার ৬নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের তরিমপুর গ্রামের মৃত জয়াদ আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম তার ৩ সন্তানের জননী তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী কে নির্যাতন শেষে যৌনাঙ্গে মরিচের গুড়া লাগিয়ে দিয়েছিলেন বলেও শুনেছি। এবং সেইসব জালিমরা সবাই ছিলেন পুরুষ! হতেই পারে! পুরুষ আজীবন বর্বর বলেই আমরা ধরে নেই। 

কিন্তু একজন নারী হয়ে পাখী বেগম কি করে এমন বর্বর কাজ করেন? নারী স্বভাবে কোমলমতি, প্রকৃতিগতভাবে নার্চারিং। তবে সেই নারীই এমন কাজ করেন কি করে? 

সমস্যাটা আসলে নারী পুরুষে নয়। সমস্যাটা হলো আমরা একচেটিয়া একটি নির্দিষ্ট জাতী-গোষ্ঠীকে সর্বক্ষেত্রে স্টেরিওটাইপ করে করে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। আর আমাদের সেই অভ্যাসের ফাঁক-ফোকর দিয়ে অন্য জাতী-গোষ্ঠী একই বর্বরতা চালাতে দ্বিধা করছেন না! আমরা অপরাধীকে লেভেল সেঁটে দিচ্ছি, অপরাধের তোয়াক্কা করছি পরে। 

আমাদের দিয়ে কিচ্ছু হবেনা। আমরা পাঠক দর্শকরা বড় অজ্ঞ।